দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে এ সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির সম্ভাব্য অবস্থান, নকশা ও নির্মাণব্যয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ আপাতত প্রকল্প দুটির পরিকল্পনা ও কারিগরি যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে ওয়াই-আকৃতির সংযোগের ভাবনা
বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য নকশা ও সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ওয়াই-আকৃতির (Y-shaped) সংযোগব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ধরনের সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুতে গুরুত্ব উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন সেতুটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বিকল্প পথ তৈরি এবং বিদ্যমান যোগাযোগব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সেতুটির অবস্থান, নকশা ও ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর। এ কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের কাঠামো নির্ধারণে সমীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পদ্মা ব্যারাজে পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষিতে গুরুত্ব
বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে এ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্যারাজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রকল্পগুলোর কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ ও সড়ক পরিবহন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।



